তারাবি পড়িয়ে বিনিময় ও হাদিয়া দেয়া-নেয়া হারাম?

sangbad24ghonta.com 1 2
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তারাবি পড়িয়ে বিনিময় ও হাদিয়া দেয়া-নেয়া উভয়টাই নাজায়েয ও হারাম

দ্বীনী ক্ষেত্রে বিনিময়কে আমাদের দেশে অনেক সময় ‘হাদিয়া’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেভাবেই ইমাম সাহেবকে যে বেতন দেয়া হয়, তাকে অনেক স্থানে ‘হাদিয়া’ বলে দেয়া হয়।
সুতরাং রামাজানে তারাবীহ নামায পড়ানোর কারণে হাফেজ সাহেবগণকে ‘হাদিয়া’ হিসেবে যা কিছু দেয়া হয়, তা শরয়ী হুকুমে ‘তারাবীহের ইমামতীর বিনিময়’ হিসেবেই গণ্য হবে।
তাই তারাবীহ নামায পড়ানোর কারণে হাফেজ সাহেবগণকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ‘বিনিময়’ উল্লেখ করে দেন অথবা ‘হাদিয়া’ উল্লেখ করে দেন, তার একই হুকুম।

এ সম্পর্কে দারুল উলূম দেওবন্দ-এর দারুল ইফতা থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত ফাতওয়ায় বলা হয়েছে :

* তারাবীহ নামাযের ইমামতীর বিনিময় গ্রহণ করা কোনভাবেই জায়েয নয়।

* তারাবীহের বিনিময় গ্রহণ করা নিঃশর্তভাবে নাজায়েয। চাই তাকে কুরআন শরীফ খতমের বিনিময় ধরা হোক বা তারাবীহের ইমামতির বিনিময় ধরা হোক।

* বহু আকাবির মুফতীয়ানে কেরামের ফত্ওয়ায় তারাবীর ইমামতির বিনিময়কে সুস্পষ্টভাবে নাজায়েয সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন– ই’লাউস সুনান-এর লেখক মাওলানা যফর আহমদ উসমানী এক প্রশ্নের জবাবে লেখেন :
والأصل فيه ما حققه ابن عابدين في رسالته شفاء العليل وبل الغليل من حرمة الإجارة …

তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যের সারকথা হলো, তারাবীহের ইমামতির বিনিময় নেওয়া জায়েয নয়। কারণ, যে জরুরত বিবেচনা করে কুরআন শরীফের তা’লীম, ফরয নামাযের ইমামতি, আযান ইত্যাদির বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয বলা হয়েছে, সেই জরুরত তারাবীহর জামা‘আতে সাব্যস্তই হয় না। কেননা, উল্লিখিত বিষয়গুলো হয় ফরজের অন্তর্ভুক্ত, না হয় সুন্নতে মুআক্কাদার অন্তর্ভুক্ত। আর তারাবীহের জামা‘আত ও ইমামতি সুন্নতে কেফায়াহ।
এরপর তারাবীহের ইমামতি সুন্নতে কেফায়া হওয়ার পক্ষে কিছু ইবারত দ্বারা দলীল পেশ করার পর হযরত মাওলানা যফর আহমদ উসমানী রহ. বলেন, উল্লিখিত ইবারত থেকে বোঝা গেল, তারাবীহের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নয়। তা কেবল ইমামতী বিনিময়েও নয়, কেবল খতমের বিনিময়েও নয়।

* হয়তো এমন হলো যে, তারাবীহের ইমাম ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের মাঝে তারাবীহের বিনিময়ের ব্যাপারে কোনো কথাবার্তা হয়নি। তবে ওই এলাকায় কুরআন খতমের বিনিময়ে লেনদেনের রেওয়াজ আছে। এ পরিস্থিতিতে ফিকহের প্রসিদ্ধ মূলনীতি المعروف كالمشروط (অর্থাৎ প্রচলিত বিষয় শর্ত করার মতোই হয়ে থাকে)-এর ভিত্তিতে সেই অবস্থায়ও তারাবীহ পড়িয়ে কিছু নেয়া জায়েয হবে না।…

* “সময় আটকে থাকা” (حبس وقت)-এর দোহাই দিয়েও তারাবীহের ইমামতীর বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয হবে না। কারণ, যে সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কেরাম বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয বলেছেন, তার মূল কারণ হলো ضياع دين তথা দ্বীন বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। (এটাকেই জরুরত শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।) حبس وقت (সময় আটকে থাকা) জায়েযের মূল কারণ নয়।

মোট কথা, কোন অবস্থাতেই তারাবীহ নামায পড়িয়ে হাদিয়া বা বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয হবে না। তা খতমে তারাবীহ হোক বা সূরাহ তারাবীহ হোক–কোন তারাবীহের বিনিময় গ্রহণ জায়েয নয়।
(দ্রষ্টব্য : দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত রেসালাহ -মু‘আওয়াযা আলাত-তারাবীহ : ১২-২৬ পৃষ্ঠা)

 


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •