দ্বীনের নসীহত

ইসলামী আলোয় আলোকিত হোক জীবন

বিয়ের সময় কেমন মেয়ে কে খুঁজবেন

Mark Twain 2
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসার শ্রদ্ধেয় নায়েবে মুহতামিম হযরত মাওলানা আনোয়ার হুসাইন সাহেব (শায়খে সানি যাত্রাবাড়ী), একদিন মাদরাসার তাকমীল জামাতের দরসে ‘কিতাবুন নিকাহ’ পড়াচ্ছিলেন।  তিনি দরসে বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাত্রী কেমন ও তার মধ্যে কী ধরণের গুণাবলী থাকতে হয়- এ বিষয়ে হাদিস ও গবেষকদের লেখনীর আলোকে আলোচনা করেন।  তার আলোচনার সারাংশ মাসিক “দ্বীনের নসিহত” পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হল-

পাত্রীর চারটি জিনিস কালো হতে হবে-
১) চুল
২) ভ্রু
৩) চোখের পলক
৪) চোখের মনি

চারটি জিনিস সাদা হতে হবে-
১) দাঁত
২) চোখ
৩) শরীর
৪) পায়ের নলা

 

চারটি জিনিস লাল হতে হবে-
২) ঠোট
১) জিহ্বা
৩) দাঁতের মাড়ি
৪) গাল ।

চারটি জিনিস গোল হতে হবে-
১) চেহারা
২) মাথা
৩) হাতের বাজু
৪) পায়ের গোড়ালি

চারটি জিনিস লম্বা হতে হবে-
১) শরীর
২) আঙ্গুল
৩) ঘাড়
৪) চুল

চারটি জিনিস ছোট হতে হবে-
১) পায়ের পাতা
২) মুখ
৩) হাতের তালু
৪) বক্ষোজ

চারটি জিনিস বড় হতে হবে-
১) কোমর
২) রান
৩) পা
৪) হাঁটু

চারটি জিনিস প্রশস্ত হতে হবে-
১) কপাল
২) সিনা
৩) চোখ
৪) দেহের রান ।

চারটি জিনিস পবিত্র হতে হবে-
১) নজর বা দৃষ্টি
২) পেট
৩) জবান তথা মুখ
৪) হাত তথা আমানত ।

 

স্বামীর থেকে চারটি জিনিস বেশী থাকতে হবে-
১) সৌন্দর্য
২) তাকওয়া ও পরহেজগারি
৩) সবর তথা ধৈর্য
৪) ইছার তথা কষ্ট সহ্য করবার ক্ষমতা।

স্বামীর থেকে চারটি জিনিস কম থাকতে হবে-
১) বয়স
২) সম্পদ
৩) ইলম
৪) ফখর তথা গর্ব

চারটি জিনিস নরম হতে হবে-
১) মন
২) দেহ
৩) তবিয়ত  তথা স্বভাব
৪) সন্তানের প্রতি মমতা ও দয়াদ্রতা

চার বিষয়ে কঠোর হতে হবে-
১) দ্বীনদারি
২) পবিত্রতা
৩) আমানত
৪) পর্দা ।

শ্রদ্ধেয় উস্তাদ হযরত মাওলানা আনোয়ার হুসাইন সাহেব এই আলোচনার পর বলেন, উক্ত গুণাবলীর সব একজনের মধ্যে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তাই অধিকাংশ গুণ দেখেই পাত্রী নির্বাচন করা আবশ্যক এবং অবশ্যই কুফু মিলিয়েই বিয়ে করবে। এতে করে আল্লাহ উক্ত বিয়েতে বরকত দান করবেন। 

 

মুজাদ্দিদে মিল্লাত হাকিমুল উম্মাত হযরত আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন, আখলাক তথা চরিত্রের সৌন্দর্যই হলো আসল সৌন্দর্য।  তাই বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি লক্ষ না করে আখলাকের সৌন্দর্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করা অধিক জরুরি।  আর তা হলো-

স্ত্রীর মধ্যে ভালো চারটি গুণ থাকতে হবে-
১) স্বামীর অনুগত হতে হবে
২) স্ত্রীর চেহারার দিকে তাকালে স্বামীর আনন্দ লাগে
৩)স্বামী কোনো কসম করলে, স্ত্রী তা থেকে তাকে মুক্ত করে
৪)স্বামী বাহিরে থাকলে স্ত্রী তার সতীত্ব ঠিক রাখে ।

পক্ষান্তরে মেয়েদের মারাত্মক ও মন্দ গুণ চারটি, যেগুলো থেকে তাদের বেঁচে থাকা আবশ্যক-
১) বে-পর্দায় থাকা
২) সাজসজ্জা করে রাস্তায় বের হওয়া
৩) অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া
৪) এবং অন্যকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা ।

উল্লেখ্য, উক্ত গুণাবলী বিশিষ্ট রমণী পেতে চাইলে অবশ্যই নিজেকে পবিত্র এবং সব রকমের পাপাচার ও গোনাহ মুক্ত রাখতে হবে।

 

পাত্রী নির্বাচনের দিক নির্দেশনা দিতে গিয়ে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুফতি আবুল হাসান আব্দুল্লাহ বলেছেন, পাত্রী দেখতে যাওয়ার আগে নিজের সবগুলো দোষ ও বদ স্বভাবের লিস্ট করে নিয়ে যাবে।  এরপর হবু স্ত্রীর সাথে দোষগুলি মেলাবে।  সমান সমান হলে ঠিক আছে। আর স্ত্রীর দোষ কম হলে তো কথাই নেই।  উক্ত মেয়েটাকে নিজের জন্যে নির্ধারিত মনে করে বিয়ে করে নেবে।

অর্থাৎ নিজের খুঁত এবং দোষের দিকে না তাকিয়ে শুধু মেয়ের দোষ ও খুঁত দেখা যাবে না। উভয়টিকে মিলিয়ে সামঞ্জস্য করে নেবে।  তবেই পাত্রী পছন্দ হবে এবং দ্রুত পাত্রী পাওয়াও সহজ হবে।

—————

বিয়ের পাত্র নির্বাচনের ব্যাপারে দরিদ্র পাত্র ধনী পাত্র অপেক্ষা উত্তম যদি সে সৎ এবং নামাজী হয়। কেননা যে আল্লাহকে ভয় করবে সে আপনাকে ভালোবেসে না হোক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হলেও আপনাকে ঠকাতে পারবেনা।

ভেবে দেখুন যদি আপনার স্বামী আপনাকে বাড়ী গাড়ী সম্পদে ভাসিয়ে রেখে অন্যত্র প্রেম করে বেড়ায়, আপনি কি সুখী হবেন? অথচ অনেক দরিদ্র পরিবারেও দেখবেন বাজার থেকে বড় মাছ এনে স্বামী স্ত্রী মিলে যখন গল্প করতে করতে কাটেন সেখানে প্রেমের উৎসব বয়ে যায়।

টাকাপয়সা দিয়ে সুখ কেনা যায়না। কারণ চাকরী পরিবর্তন করা যায় কিন্তু চরিত্র পরিবর্তন করা যায়না। একজন ভালো স্বামী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্ত্রীকে সে সকল সুযোগ সুবিধা দেবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে- শ্বশুরবাড়ীর সাথে, স্ত্রীর বন্ধুবান্ধবের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখবে যাতে স্ত্রী খুশী থাকে।সে কখনোই স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করবেনা যেহেতু সে জানে এর জন্য তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

আজকাল দেখা যায় পাত্র পেঁচার মত হলেও পাত্রী চাই ফর্সা, সুন্দরী, লম্বা, স্বাস্থ্যবতী, শিক্ষিতা, নব্যরুচিশীলা, বড়লোকের কন্যা। কোথাও চরিত্রের বা স্বভাবের ব্যাপারটি গুরুত্ব পায়না। অসংখ্যবার দেখেছি রীতিমত চারিত্রিক সমস্যাগ্রস্ত মেয়েদের হটকেকের মত বিকিয়ে যেতে অথচ বুদ্ধিমতি, সচ্চরিত্র, সুন্দর স্বভাবসম্পন্না মেয়েদের বিয়ে হয়না। অনেক শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান ভাইকে জিজ্ঞেস করেছি,

“আচ্ছা, আপনারা শুধু চেহারা দেখে এমন মেয়ে কি করে বিয়ে করেন যাদের এতটুকু বুদ্ধি বা ম্যাচুরিটি নেই যে আপনি দু’ছত্র কবিতা বললে সে তা উপলব্ধি করতে পারে?”

অনেকে এড়িয়ে গিয়েছেন, আবার অনেকে সততার সাথে উত্তর দিয়েছেন, “এদের সহজে ডমিনেট করা যায় যা বুদ্ধিমতি মেয়েদের করা যায়না” একটি বিয়ের উদ্দেশ্য কি বন্ধুত্ব হওয়া উচিত না স্বৈরাচার, তা আপনাদের বিবেচনায় ছেড়ে দিলাম। তবে যার সাথে মনের কথা শেয়ার করা যায়না, যে আপনার সুবিধা অসুবিধা বোঝার মত বিবেকবুদ্ধি রাখেনা তার চেহারা দেখে সব কষ্ট ভুলে থাকা যায় কি’না এটা গবেষণা করার মত বিষয়।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •