দ্বীনের নসীহত

ইসলামী আলোয় আলোকিত হোক জীবন

লকডাউনের মাঝেই ভারতীয় সেনার অভিযানে ২১ কাশ্মীরি জনগন নিহত

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জারি করা লকডাউনের মধ্যেই ভারতশাসিত কাশ্মীরে সেনা অভিযানে অন্তত ২১ স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছেন। পিটিআইর বরাত দিয়ে ভারতের বিখ্যাত গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর অনলাইন ভার্সনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

দ্য হিন্দুর বরাত দিয়ে ভারতের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল এই সময় জানায়, শনিবার ভোরে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে সেনা ও ‘সন্ত্রাসবাদীর’ মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলওয়ামা জেলায় অবন্তীপোরার গোরিপোরা এলাকায় সেনাবাহিনীর গুলিতে তিন ‘সন্ত্রাসবাদী’ নিহত হয়েছে।

এর আগে দক্ষিণ কাশ্মীরের বিজবিহারার আরওয়ানিতে শুক্রবার দুই ‘জঙ্গিকে’ হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী। নিহত ‘জঙ্গিরা’ এক পুলিশ কর্মীকে অপহরণ করেছিল। শুক্রবার পিটিআইর বরাত দিয়ে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লকডাউনের মধ্যে কাশ্মীরে সেনা অভিযানে অন্তত ১৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়।

প্রসঙ্গত কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের ভারত সরকার ও দেশটির গণমাধ্যম ‘সন্ত্রাসী ও জঙ্গি’ বলে উল্লেখ করে থাকে। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বশাসন ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে আসছে।

পিটিআইর প্রতিবেদনে এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, চলতি বছরে কাশ্মীরে সেনা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫০ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৭ সদস্যও প্রাণ হারিয়েছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভারতে গত ২৫ মার্চ থেকে প্রথমে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। পরে সেটি বাড়িয়ে ৩ মে পর্যন্ত করা হয়। আরেক দফা বাড়িয়ে সেটি ১৬ মে পর্যন্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

তিন মাস পর প্রতিদিন না খেয়ে মরবে ৩ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

গেল বছরের শেষের দিক থেকেই পঙ্গপালের হানায় পৃথিবীর ১০ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছিল জাতিসংঘ। এ বছরের শুরু থেকেই করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির গোটা বিশ্ব। লকডাউনের কারণে কয়েক গুণ বেড়েছে খাদ্য সঙ্কট। আগামী দুই তিন মাস পর পৃথিবীতে প্রতিদিন অন্তত ৩ লাখ মানুষ অনাহারে মারা যাওয়ার আশঙ্কা জাতিসংঘের।

আফ্রিকার ৬টি দেশে পঙ্গপালের হানায় ২ কোটি মানুষ খাদ্য সঙ্কটে রয়েছেন। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের একশোরও বেশি দেশে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে গোটা পৃথিবীতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই।

একজন বলেন, এমব্রোজ গেটিস, প্রকল্প পরিচালক, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, জাতিসংঘ আমরা পঙ্গপাল নির্মূলে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছি সেগুলো করোনাভাইরাসের কারণে হওয়া লকডাউনে আটকে আছে। তাই আমরা স্বল্প পরিসরে বিমানের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে, এটি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তাই এটি বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে যার পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না।

পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকলেও করোনার কারণে চলমান লকডাউনে সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ।

একজন বলেন, ট্রাক চালক লকডাউনের কারণে কেউ রাস্তায় বের হতে পারছে না। আমরা একটা সময় একটি ট্রিপের জন্য ৫ হাজার নাইজেরিয়ান টাকা খরচ করতাম। এখন ৩৫ হাজার খরচ করতে চাই। কিন্তু তাও সম্ভব হচ্ছে না।

জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, সারাবিশ্বে নতুন করে ৩ কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ২ কোটি মানুষকে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। আগামী ৩ মাসের মাথায় প্রতিদিন ৩ লাখ মানুষ সারা বিশ্বে খাদ্যের অভাবে মারা যাবেন। এ মৃত্যু করোনাভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত নয়।

পাকিস্তান, হংকংসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ অনলাইনে খাদ্যপণ্য সরবরাহ শুরু করেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় পর্যন্ত নয়। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের মানুষের অনলাইনে খাদ্য সংগ্রহ করার সামর্থ্য না থাকায় সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না মত বিশেষজ্ঞদের।

খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, এই সংকটের সময় আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিক্রি অন্তত ৭৭ শতাংশ বাড়াতে চাই। এর জন্য আমরা অনলাইনে বিক্রয় আদেশ গ্রহণ এবং মানুষের দরজায় পণ্য পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেছি।

এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে। মজুদ করার প্রবণতা না থাকলে সঙ্কট মোকাবিলা করা সহজ হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে দেড় কোটি মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। বছরের শেষে এ সংখ্যা ২৬ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •