দ্বীনের নসীহত

ইসলামী আলোয় আলোকিত হোক জীবন

অসুস্থ অবস্থায় রোযা রাখা যাবে কি?

233351kalerkanth 1 2019 05 09 9
Spread the love            জিজ্ঞাসাঃ আমার স্ত্রীর বয়স ২২ বৎসর। সে বিগত ৫ বৎসর যাবত জটিল...
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জিজ্ঞাসাঃ

আমার স্ত্রীর বয়স ২২ বৎসর। সে বিগত ৫ বৎসর যাবত জটিল গ্যাষ্ট্রিক রোগে ভুগছে।যার কারণে আজ চার বৎসর যাবৎ রামাযান মাসে কষ্ট করে ৪/৫ টি রোযা রাখলে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য যে, ডাক্তারের পক্ষ থেকে রোযা রাখা সম্পূর্ণ নিষেধ। এখন আমি তার বিগত দিনের রোযা এবং আগামী রামাযানের রোযার ব্যাপারে কি করতে পারি?


জবাবঃ

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর জন্য সুস্থ হওয়া পর্যন্ত রোযা রাখা জরুরী নয়। যখন সুস্থ হবে, তখন উক্ত রোযাগুলো কাযা করে নিতে হবে। আর যদি ইন্তিকালের পূর্বে সুস্থ না হয়, তাহলে ফিদিয়া দিতে হবে না। অবশ্য যদি দু’একটি করে রামাযানে ও পরবর্তীতে রাখতে সক্ষম হয়, তবে সেভাবে কাযা আদায় করে নিতে হবে।[প্রমাণঃ সূরা বাকারহ ১৮৪# হিদায়া ১:২২১]

 

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে এমন ব্যক্তি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে ব্যক্তি রোযা রাখতে গেলে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। জবাবে তিনি বলেন: যদি রোযা রাখা তার জন্য এ ধরণের রোগের কারণ হয় তাহলে সে রোযা না রেখে কাযা পালন করবেন। যদি যে কোন সময় রোযা রাখলেই তার এ অবস্থা হয় তাহলে তিনি রোযা পালনে অক্ষম হিসেবে গণ্য হবেন এবং প্রতিদিনের বদলে একজন করে মিসকীন খাওয়াবেন। আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।[মাজমুউল ফাতাওয়া (২৫/২১৭) থেকে সমাপ্ত]

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:

“অক্ষম ব্যক্তির উপর রোযা ফরয নয়। দলিল হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী: “আর কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করবে”।[সূরা বাক্বারা, ২:১৮৫]

তবে গবেষণার মাধ্যমে এটা পরিষ্কার যে, অক্ষমতা দুই প্রকার: সাময়িক অক্ষমতা ও স্থায়ী অক্ষমতা। সাময়িক অক্ষমতা হল: যা দূর হওয়ার আশা রয়েছে। আয়াতে সে অক্ষমতার কথায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অক্ষম ব্যক্তির অক্ষমতা দূর হলে সে রোযাগুলো কাযা করবে। যেহেতু আল্লাহ্‌ বলেছেন: “সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করবে” । আর স্থায়ী অক্ষমতা হল যা দূর হওয়ার আশা নেই। এমন ব্যক্তির ওপর প্রতিদিনের বদলে একজন করে মিসকীন খাওয়ানো ওয়াজিব।”[আল-শারহুল মুমতি (৬/৩২৪-৩২৫) সমাপ্ত]

 

রোযার কাফ্‌ফারা হিসেবে যে পরিমাণ খাদ্য দেয়া ওয়াজিব: প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে খাদ্য দেওয়া। এর পরিমাণ হচ্ছে– স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান খাদ্যদ্রব্যের অর্ধ সা’। অর্ধ সা’-এর ওজন প্রায় দেড় কিলোগ্রাম।

ফাতাওয়াল লাজনাহ আদ্‌-দায়িমা, প্রথম খণ্ডে (১০/১৬৭) এসেছে: “আপনি যে কয়দিনের রোযা রাখেননি সে কয়দিনের প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে খাদ্য ফিদিয়া হিসেবে প্রদান করলে হবে। একদিনের খাদ্যের পরিমাণ হচ্ছে অর্ধ সা’। অর্থাৎ প্রায় দেড় কিলোগ্রাম চাল, গম বা অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য সাধারণত স্থানীয়রা যে খাদ্য খেয়ে থাকে।”[সমাপ্ত]

 

এমন মিসকীনকে খাওয়ানো ওয়াজিব যে মিসকীনের কাছে তার নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য নেই। তাই আপনাদের দেশে যদি মিসকীন না থাকে তাহলে অন্য যে দেশে মিসকীন আছে সেখানে খাদ্য প্রদান করার জন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া জায়েয হবে। আমরা যতটুকু পারি আল্লাহ্‌ আমাদেরকে ততটুকু পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে আপনারা যে দেশে থাকেন সে দেশের চেয়ে যদি অন্য কোন দেশে ক্ষুধাগ্রস্ততা ও প্রয়োজন বেশি হয় তাহলে কাফ্‌ফারা ও সদকা সেই দেশে স্থানান্তরিত করা জায়েয আছে।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •