দ্বীনের নসীহত

ইসলামী আলোয় আলোকিত হোক জীবন

পবিত্র রমযান মাসে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয়

82768458 951841298565182 2731298827423186944 n
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

 

রমজানুল মোবারক হলো মুমিন বান্দার জন্য মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের আহ্বান । কোরআন ও হাদিসের ভাষ্যমতে, রমজান পাপমোচন ও আল্লাহর রহমতের বারিধারায় সিক্ত হওয়ার মাস এবং মৃত্যু-পরবর্তী অনন্ত জীবনের জন্য সুখসৌধ নির্মাণের মাস। তাই একজন মুমিনের জন্য আবশ্যক কর্তব্য হলো, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পবিত্র রমজানে সকল প্রকার গুণাহর কাজ থেকে বিরত থাকা এবং পুণ্য কাজে আত্মনিয়োগ করা। এখানে সব শ্রেণীর মুসলমানের জন্য হাদিসে বর্ণিত রমজানুল মুবারকের বিশেষ আমল সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো।

 

রোজা রাখাঃ

রমজান মাসের প্রধান ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ইখলাছপূর্ণ রোজা রাখা। বুখারী ও মুসলিম সূত্রে বর্ণিত, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা ঈমান, সওয়াব, ইখলাছের উদ্দেশ্যে রাখবে, তার পূবর্তী সব গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে জানিয়েছেন রাসুল (সা.)।

তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ আদায়ঃ

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা ঈমান, ইখলাছের সঙ্গে রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)

অধিক সময় কোরআন তিলাওয়াত করাঃ

হাদিস শরীফে বর্ণিত, হজরত জিবরাইল (আ.) রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাকে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করে শোনাতেন। (বুখারী)

সদকা-খয়রাত ও রোজাদারকে ইফতার করানোঃ

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানের সদকা সবচেয়ে উত্তম সদকা।’ (তিরমিজি) তিনি (সা.) আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সেও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। রোজাদারের সওয়াব মোটেও কমানো হবে না।

হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করাঃ

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রুজি। আহার ও রুজি হারাম হলে আল্লাহর দরবারে তার কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য হয় না। রমজান মাসে এর গুরুত্ব বেড়ে যায় আরো বহুগুণ। রাসুল (সা.) রমজান মাসে হালাল রুজির প্রতি যত্নবান ব্যক্তির জন্য ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘যার রমজান মাস নিরাপদে কাটল, তার পুরো বছরই নিরাপদে কাটল।’ (তিরমিজি)

দোয়া ও ইস্তেগফার করাঃ

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, রমজান মাসে বান্দার দোয়া কবুল করা হয়। (হাদিসের অংশ) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও স্বীয় গুণাহ ক্ষমা করাতে পারল না তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। ইতেকাফ করা বুখারী শরীফে বর্ণিত, হুজুর (সা.) প্রত্যেক রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছরও বিশদিন ইতেকাফ করেন।

শবে কদর তালাশ করাঃ

হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ কর।’ অপর হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাছের সঙ্গে শবে কদরের নফল আদায় করল তার পূর্ববর্তী সব গুণাহ ক্ষমা করা হয়।’ (বুখারী ও মুসলিম)

রমজানে উমরা আদায়ঃ

রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানে উমরা আদায় হজের সমান সওয়াব।’ (বুখারী)

পাপ কাজ ছেড়ে দেয়াঃ

পাপের ফলে রমজান মাসের বরকত এবং সওয়াব নদ্ব হয়। রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণু করার কারণে কখনো কখনো গুণাহের ভাগী হতে হয়। তাই রোজাদারের জন্য রমজান মাসে গুণাহ ত্যাগ করা আবশ্যক। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, কখনো যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও কাজ ছাড়ল না, আল্লাহর জন্য তার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী ও মুসলিম) রমজান মাসে প্রত্যেক আমলের পরিবর্তে কমপক্ষে সত্তর গুণ বেশি সওয়াব প্রদান করা হয়। সুতরাং রমজান মাসে গুণাহ থেকে বেঁচে থাকার এবং অধিক পরিমাণ নেক আমল করার দৃঢ় প্রত্যয় করতে হবে। মহান মাবুদ আমাদের তাওফিক দিন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •